সি. এস. খতিয়ান চেনার সবথেকে সহজ উপায়।

সি. এস. খতিয়ান চেনার উপায়
সি. এস. খতিয়ান চেনার উপায়

যাদের জমি আছে বা যারা জমি যায়গার ঝামেলায় পড়েছেন তারা যানেন জমি বিভিন্ন খতিয়ান বা পর্চায় লিপিবদ্ধ থাকে। এই সব খতিয়ান গুলি বিভিন্ন সময়ে জরিপ কাজের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই সব জরিপ গুলির মধ্যে সবথেকে প্রশিদ্ধ জরিপ হল সি. এস. জরিপ।

সি. এস.(CADASTRAL SURVAY) জরিপ প্রথম পূর্নাংগ জরিপ। কারণ এই জরিপে প্রথম ভূমির নক্সা প্রস্তুত করা হয় এবং নক্সায় দাগ নম্বর প্রদান করা হয়।েআজ আপনাদের সি. এস. জরিপ ও খতিয়ান বিষয়ে কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব।

​সি. এস. খতিয়ান কি?

ব্রিটিশ শাসন আমলে বেশ কয়েকটি জরিপ হইলেও একমাত্র সি. এস. জরিপ বা CADASTRAL SURVAY হল প্রথম পূর্নাঙ্গ ও নির্ভুল জরিপ। সি. এস জরিপে প্রথমবারের মত ম্যাপ প্রস্তুত করত খন্ডিত জমির দাগ নম্বর প্রদান করা হয় এবং দাগগুলির জমির পরিমান কত তাও লিপিবদ্ধ করা হয়।

যে সরকারী দলিলের উপর একটি সি. এস. দাগের বা একাধিক দাগের জমির পরিমান, জমির মালিক, অত্র দাগে মালিকের হিস্যা, দখলকার ব্যক্তি, উত্তর সীমানার দখলকার, উপরস্থ প্রজা, রায়তী স্বত্ব ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে তাহাই সি. এস. খতিয়ান নামে পরিচিত।

সি.এস. খতিয়ান কত সালে হয় ?

তৎকালিন ইংরেজ সরকার ইং 02/06/1890 সালে সি.এস. জরিপ আরম্ভ করার নিরদেশ প্রদান করিলেও কাজ আরম্ভ হয় 2 বছর পরে। এই জরিপ শেষ হয় 6 বছর পরে। ইং 22/05/1898 সাল গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সি.এস. জরিপ শেষ হয়ে চড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয় ইং 1940 সাল মধ্যে।

কোন আইনের ভিত্তিতে সি. এস. জরিপ হয়?

বি. টি. এ্যক্ট এর 103(বি) ধারা মোতাবেক সি. এস. জরিপ করা হয়। সরকার সি. এস. জরিপ করিবার জন্য Calcatta Gazzette No. 4789 L.R. Dted: 22/11/1893  এ প্রকাশ করে।

কেন সি. এস. জরিপ করা হয়?

মঘী জরিপের সময় সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি ধরা পড়েতা সংশোধনের জন্য এবং নতুন ভুমি সংযোজনের সংযোজনের মাধ্যমে ভুমি ব্যবহারকারির নাম, ভুমির নক্সা, জমির দাগ নম্বর প্রদানের মাধ্যমে ভুমির খাজনা আওতা ও পরিধী বৃদ্ধির জন্য নতুন জরিপের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

সি. এস. জরিপের বেশ কয়েকটি কারন রহিয়াছে, যার কিছু কারণ নিচে প্রদান করা হইল।

  • স্বপ্ল মেয়াদী বন্দোবস্তের মেয়াদ 1898 সালে শেষ হইলে উক্ত জমিসমূহ পূর্ণ হিসাবে আনা।
  • রাজস্ব বিহীন সম্পত্তি সমূহ পূর্ণ বন্দোবস্ত প্রদান করা।
  • মৌজার সীমানা চিন্হিত করা।
  • জমির ম্যাপ প্রস্তুত করণ।
  • খন্ডিত জমির দাগ নম্বর প্রদান এবং দাগসমুহ খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করত মালিকানা নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী খাজনা নির্ধারণ।

সহজভাবে সি. এস. খতিয়ান চিনবেন কিভাবে?

সি. এস. খতিয়ান চেনার সময় বেশ কিছু সময় সমস্যা পরতে হয়। এই ধরনের সমস্যায় সাধারণত নবিন আইনজীবী গণ বেশী ভুগে থাকেন। এর প্রধান কারণ হল, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের রের্কডের সময় র্পচার আকার আকৃতি বিভিন্ন রকমের হওয়া।  উধাহরণ হিসাবে বলা যায়, সি. এস. খতিয়ান সবথেকে বড় খতিয়ান। কিন্তু, বর্তমানে ডিজিটাল সি. এস. খতিয়ান লিগ্যাল সাইজের কাগজে দেওয়া হয়। আসুন এবার দেখা যাক কোন ধরনের সি. এস. খতিয়ান কিভাবে চিনবেন।

পুরাতন বা মূল সি. এস খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

  • সবথেকে বড় খতিয়ান। লম্বায় 17’’ ইঞ্চি এবং প্রসস্ত 13.50 ইঞ্চি হয়।
  • এই খতিয়ানের উভয় পাশে একই রকমের ছাপা থাকে।
  • খতিয়ানের নম্বর, দখলকারের নাম, দাগ নম্বর, চৌহদ্দী ও জমির পরিমান
  • খতিয়ান নম্বর বাম দিকের প্রথম কলামে থাকে।

নতুন বা ডিজিটাল সি. এস. খতিয়ান চেনার উপায়।

  • উপরে বড় করে লেখা থাকে সি. এস. খতিয়ান
  • খতিয়ান নম্বর ডানে থাকে।
  • অত্র খতিয়ানে উপরিস্থ স্বত্ব এর বিবরণ থাকে।
  • উপরিস্থ স্বত্বের নিচের কলামে স্বত্বের বিবরণ থাকে।
  • ডিজিটাল সি. এস. খতিয়ানের অপর পৃষ্ঠায় দাগ নম্বর, উত্তর সীমানার দখলকার, জমির রকম, স্বত্বের হিস্য, মোট জমি থাকে।
  • ঐ পৃষ্ঠার নিচে নীচস্থ স্বত্বের তালিকা থাকে।

আজ এটুকুই । সি. এস. খতিয়ান সম্পকে কোন প্রশ্ন থাকলে দয়াকরে নিচে কমেন্ট বস্কে করুন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *