দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর (পর্ব-1)

দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর

দেওয়ানী কার্যবিধি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থানের দেওয়ানী মোকদ্দমা পরিচালনার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনে সমস্ত দেওয়ানী মোকদ্দমা কিভাবে পরিচালিত হইবে তাহা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হইয়াছে।

আজকে ছোট প্রশ্ন আকারে দেওয়ানী কার্যবিধির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরার কারন হচ্ছে আপনারা যখন ইচ্ছা তখন এই বিষয়গুলি দেখে যে কোন পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব সহজেই যে কোন স্থানে বসে নিতে পারবেন।

আজকে উক্ত দেওয়ানী কার্যবিধি, 1908 এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরলাম। আশা করি আপনার উপকৃত হবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধি কোন তারিখে প্রকাশিত হয় ও কোন তারিখে কার্যকর হয়?

দেওয়ানী কার্যবিধি 21 শে মার্চ 1908 সালে প্রকাশিত হয়। উক্ত আইনটি ইং 01/01/1909 সালে সমগ্র উপমহাদেশে (বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থান) কার্যকর হয়।

দেওয়ানী কার্যবিধির মোট কয়টি ধারা ও কয়টি আদেশ রয়েছে এবং কয়টি ধারা ও আদেশ কার্যকর রহিয়াছে।

1908 সালে দেওয়ানী কার্যবিধির মোট 158 টি ধারা থাকিলেও বর্তমানে 155 টি ধারা কার্যকর রহিয়াছে। উক্ত আইনের 51 টি আদেশ থাকিলেও বর্তমানে 50 টি আদেশ কার্যকর রহিয়াছে।

বাদী বলতে কাকে বোঝায়?

সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে, যিনি বা যাহারা মামলা দায়ের করেন তারাই বাদী। দেংঃ কাঃ বিঃ আদেশ 1 বিধি 1 অনুযায়ী, যে সকল ব্যক্তি একই কার্য বা লেনদেন বা এই শ্রেণীর পৃথকভাবে বা বিকল্পভাবে কোন প্রতিকার পেতে পারেন বলিয়া দাবী করে, সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিগণ পৃথক মামলা দায়ের করিলে একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হয়, সেই সকল ব্যক্তি একটি মোকদ্দমার বাদী হইতে পারেন।

বিবাদী বলতে কি বোঝায়?

সাধারণত, দেওয়ানী মামলা যিনি বা যাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় তাদেরকে বিবাদী বলা হয়ে থাকে।

Cause Of Action বা মোকদ্দমা উৎপত্তির কারন বলতে কি বোঝায় ?

বাদী যে সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মামলা ফলাফল তার পক্ষে কামনা করে, সেই সব বিষয়কে একত্রে মামলা উৎপত্তির কারন বা Cause Of Action বলা হয়। তবে, দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, Cause Of Action বা মোকদ্দমা উৎপত্তির কারন একটি নিদিষ্ট দিনে দেওয়া হয়ে থাকে। এর কারন হচ্ছে ঐ দিন অনুসারে তামাদী গণনা করা হয়ে থাকে।

এখানে বলে রাখা ভলো যে, কোন মোকদ্দমার Cause Of Action বা মামলা উৎপত্তির কারন যদি দেওয়া না থাকে তবে দেংঃ কাঃ বিঃ অর্ডার 7 রুল 11(ক) মোতাবেক অত্র মামলাটি বিজ্ঞ আদালত খারিজ করিবেন।

রেস জুডিকেটা বা Res Judicata বলতে কি বোঝায়?

দেংঃ কাঃ বিঃ 11 ধারাতে রেস জুডিকেটা বা Res Judicata সম্পর্কে বলা আছে। রেস জুডিকেটা বা Res Judicata বলতে সাধারণ ভাষায় বোঝায় যে, যদি কোন একই বিষয় নিয়ে একই পক্ষগণের বা তাহার ওয়ারেশগণের মধ্যে অতীতে কোন মামলায় বিজ্ঞ আদালত কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এবং ঐ একই বিষয় নিয়ে একই পক্ষগণের বা তাহাদের ওয়ারেশগণের মধ্যে সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলা করা হয় তবে, পরর্বতী মামলাটি চলবে না।

আজকে শুধু শুরু করলাম। আগামীতে আরো আলোচনা করবো।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
Scroll to Top