এই পদ্ধতি গুলি না মেনে নাবালকের জমি কিনলেই কিনলেই কিন্তু আপনি জমি হারাবেন

নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রয় করার কি কি নিয়মগুলি না মানলে উক্ত হস্তান্তর বা বিক্রয় অবৈধ হবে

বেশ কিছু সময় নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তখন রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে বাধে বিপ্তত্তি। রেজিষ্ট্রার মহোদয় নাবালকের সম্পত্তির হস্তান্তর দলিল রেজিষ্ট্রি করতে চাহেন না। কিন্তু কেন?

আজ আপনাদের সাথে এই কেনোর সঠিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো এই লেখাতে। তো চলুন শুরু করা যাক!!

আসলে আমাদের দেশ তথা এই দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের আইন ও বিচার ব্যাবস্থার আধুনিক কাঠামো নির্মান করেছে ব্রিটিশ শাষকগণ। যদিও তারা আমাদের এই অঞ্চল থেকে দেওয়ার থেকে নিয়েই গেছে বেশী। তারপরও আইন ও বিচার ব্যাবস্থার আধুনিকায়ন করার জন্য তাদের অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হবে।

ব্রিটিশরা এদেশে শাষণকার্য শুরু করার পর বুঝতে পারে যে, নাবালক (সাধারণত কোন ব্যক্তির বয়স যদি 18 বছরের নিচে থাকে) তার অজির্ত সম্পত্তি তা সে ক্রয় করুক বা ওয়ারেশ সুত্রে পেয়ে থাকুক না কেন উক্ত সম্পত্তি রক্ষা করা খুবই দুরহ একটি কাজ। এই সমস্যাকে পশমিত করার জন্য Guardians and Words Act, 1890 নামে একটি আইন প্রনয়ন করা হয়।

সেকারন, এই আইনটি নাবালকের স্বার্থ রক্ষার্থে 1890 সাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এই আইনটি দিয়েই বার্তমানে মাননীয় আদালত নাবালকদের সকল বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকেন। এখন আমি মূল আলোচনায় যাবো। *** মূল আলোচনা হচ্ছে*** “নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রয় করার সময় কি কি নিয়মগুলি না মানলে উক্ত হস্তান্তর বা বিক্রয় বৈধ হবে না? “

নাবালক কি নিজেই তার সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারেন?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নাবালক নিজে তার অর্জিত সম্পত্তি কোন প্রকার হস্তান্তর করতে পারবে না। তবে, তার বৈধ অভিভাবক উক্ত নাবালকের পক্ষে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে, যে কোন চুক্তি করতে পারবে, ইত্যাদি।

নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় করার বিজ্ঞ আদালত হইতে কোন অনুমতি নিতে হয় কি?

হাঁ। নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি না নিয়ে নাবালকের জমি বিক্রি করলে ওই বিক্রি অবৈধ হবে।

নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় করার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়ার পদ্ধতি গুলি কি কি???

নাবালকের জমি বিক্রয় করিবার জন্য আলাদলতে মামলা করে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু অনুমতি নেয়ার পদ্ধতি কি? নিচে খুব সংক্ষেপে এই ধরনের মামলার ধাপগুলি দিয়ে দিলাম।

  1. আপনাকে সকল কাজ পত্র যোগার করতে হবে।
  2. যিনি অভিভাবক হবেন তার নাম ঠিকানা।
  3. নাবালকের নাম ঠিকানা।
  4. যিনি প্রতিপক্ষ হবেন তার নাম ও ঠিকানা।
  5. মামলা করে নোটিশ দিতে হবে।
  6. নোটিশের পর সাক্ষী দিতে হবে।
  7. এর পর বিজ্ঞ আদালত তাহার আদেশ প্রদান করবেন।
  8. অতঃপর বিজ্ঞ আদালত দরখাস্তকারী ব্যক্তি কে নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ করবেন।
  9. তারপর নাবালকের অভিভাবক নিয়ক বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন।
  10. তারপর উক্ত অভিভাবককে বিজ্ঞ আদালতে দরখাস্ত করে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য অনুমতি নিতে হবে।

নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ের অনুমতির জন্য কি কি কাগজ লাগবে?

এবার আসা যাক কি কি কগজপত্র লাগবে ? এক এক করে চলুন বলে দেই।

  1. নাবালকের পিতার মৃত্যু সনদ।
  2. নাবালকের পিতার ওয়ারেশ সনদ।
  3. নাবালকের জন্ম সনদ।
  4. সকল প্রকার সম্পত্তির কাগজ যেমনঃ খতিয়ান, দলিল ইত্যাদি।

আশা করি এই Information গুল আপনাদের কায়ে লাগবে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
Scroll to Top