হিন্দু নাবালক, নাবালিকার (১৮ বছরের নিচে) জমি হস্তান্তরের নিয়ম কি?

অনেক সময় দেখা যায় পিতা মারা যাওয়ার সময় পুত্র বা কন্যা নাবালক বা নাবালিকা থেকে যায়। নাবালক বা নাবালিকা অর্থাৎ আইনের দৃষ্টিতে যার বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করে নাই। এই নাবালক বা নাবালিকা তাহাদের প্রাপ্ত সম্পত্তি আইনগত ভাবে হস্তান্তর করিতে পারে না।
নাবালক বা নাবালিকা তার সম্পত্তি বিক্রয় করতে অবশই বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে অভিভাবক নিযুক্ত হয়ে তার পর আদালত হইতে জমি বিক্রয়ের অনুমতি পত্র নিয়ে জমি বিক্রয় করতে হয়।
হিন্দু নাবালক বা নাবালিকার জমি কখন বিক্রি করা যায়?
- নাবালক বা নাবালিকার লেখা পড়া করানর জন্য
- নাবালক বা নাবালিকার ভরণপোষণ দেয়ার জন্য
- নাবালক বা নাবালিকার চিকিৎসা বা সুস্থতার জন্য
- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দু নাবালিকার (১৮ বছরের নিচে) জমি হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দিক রয়েছে।
এখানে সংক্ষেপে বিষয়টি তুলে ধরা হলো:
১. অভিভাবকের মাধ্যমে হস্তান্তর: নাবালিকা নিজে জমি হস্তান্তর করতে পারে না। তবে তার আইনি অভিভাবক (guardian) আদালতের অনুমতি নিয়ে তার পক্ষে জমি হস্তান্তর করতে পারেন।
২. আদালতের অনুমতি:Guardian and Wards Act, 1890 অনুযায়ী, নাবালিকার অভিভাবক যদি তার জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে চান, তাহলে জেলা জজ আদালতে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।আদালত যাচাই করবে যে, এই জমি হস্তান্তর নাবালিকার সর্বোত্তম স্বার্থে (for the welfare of the minor) হচ্ছে কিনা।
৩. নাবালিকা যদি উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পায়:যদি কোনো হিন্দু নাবালিকা উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হন, তাহলেও তিনি নিজে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না যতক্ষণ না তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হন।
৪. হস্তান্তর অবৈধ হলে:আদালতের অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা যাবে না।
কি ভাবে আদালতের নাবালক বা নাবালিকার অভিভাবক হবার অনুমতি নিবেন?
হিন্দু নাবালিকার (১৮ বছরের নিচে) জমি হস্তান্তরের জন্য বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে হয়। মামলা করার ধাপগুলি নিম্ন রূপঃ
- যিনি নাবালক বা নাবালিকার প্রকৃত অভিভাবক তিনি মৃত্যু বরন করিবার পর যে ব্যক্তি উক্ত নাবালক বা নাবালিকার অভিভাবক হইতে আগ্রহী তিনি দরখাস্তকারী হইবে।
- প্রতিপক্ষ(সাইটি) হিসাবে কোন নিকট আত্মীয়র নাম থাকিতে হইবে।
- প্রকৃত অভিভাবক কবে মৃত্যু বরন করিয়াছেন সে বিষয়ে মৃত্যু সনদ এবং বক্তব্য।
- নাবালক বা নাবালিকার জন্ম সনদ অর্থাৎ নাবালক বা নাবালিকার বয়স সম্পর্ক স্পষ্ট বিবরণ।
- যে জমি বা সম্পত্তির অভিভাবক হবেন উক্ত জমির সকল কাগজ ( দলিল বা খতিয়ান) তপসিলে আনতে হবে।
- অভিভাবক নিযুক্ত হইবার পরে আদালতে নালিশী জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করার অনুমতি সনদ নিয়ে জমি বিক্রয় করতে হবে।
শেষের কথাঃ
হিন্দু নাবালক বা নাবালিকার জমি বিক্রয় করা অবশয় সংশ্লিষ্ট আদালত হইতে অভিভাবক হয়ে জমি বিক্রির অনুমতি নীয়র তারপর জমি বিক্রি করতে হবে। তবে উক্ত বিক্রি লব্ধ অর্থ অবশ্যই নাবালক বা নাবালিকার পড়াশোনা, ভরণপোষণ এবং চিকিৎসার কায়ে ব্যবহার করতে হবে।

Leave a Reply